তাড়াহুড়ায় পানি পানে যত ক্ষতি

তাড়াহুড়ায় পানি পানে যত ক্ষতি

ফাইল ফটো

জীবনধারণের অন্যতম মৌলিক উপাদান—পানি। প্রতিদিনই পানি পান করতে হয়। এই পানি পানের সাধারণ অভ্যাসেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় ভুল। যা  স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাড়াহুড়া করে পানি পানের অভ্যাস নীরব ক্ষতিগুলো।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুতগতিতে পানি পান করলে শরীর সেটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পানি পান করলে শরীর তা সহজে গ্রহণ করে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। 

ধীরে পানি পানের অভ্যাস অনেকটা গাছের মতো—ধীরে পানি দিলে যেমন মাটিতে ভালোভাবে শোষিত হয়, তেমনি শরীরও ধীরে গ্রহণ করা পানি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে।

দ্রুত পানি পানে যত ক্ষতি
 
দ্রুত বা ঢকঢক করে পানি পান করলে হজমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। হঠাৎ পেট ভার হয়ে যাওয়ার কারণে খাওয়ার আগ্রহও কমে। একই সঙ্গে পাচকরস সাময়িকভাবে পাতলা হয়ে গিয়ে খাদ্য ভাঙার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে। এর ফলে গ্যাস, অস্বস্তি এবং পেটফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকেও ব্যাহত করে।

ধীরে পানি পানে যে সুবিধা

অন্যদিকে, ধীরে ধীরে পানি পান করলে শরীর অল্প অল্প করে সেটি গ্রহণ করতে পারে। এতে পাচকরস কার্যকর থাকে, হজম সহজ হয় এবং শরীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এ ছাড়া লালার সঙ্গে মিশে পানি শরীরে প্রবেশ করায় হজম প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সহায়তা মেলে। পাশাপাশি দিনভর শরীর সমানভাবে হাইড্রেটেড থাকে।

হঠাৎ পেট ভরে যাওয়ার অস্বস্তিও তৈরি হয় না।

স্বাস্থ্যকর উপায়ে পানি পান করবেন যেভাবে

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সারা দিনে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে পানি পান করা উচিত। তীব্র পিপাসা লাগার আগেই নিয়মিত বিরতিতে পানি খাওয়া ভালো। কারণ বেশি তৃষ্ণা পেলে অতিরিক্ত পানি পান করার প্রবণতা তৈরি হয়। খাবারের সময় তৃষ্ণা পেলে খুব অল্প পরিমাণে পানি পান করা যেতে পারে। তবে সেটি অবশ্যই ধীরে ধীরে পান করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সব সময় বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না—ছোট ছোট অভ্যাসই গড়ে দেয় বড় পার্থক্য। পানি পান করার মতো সহজ একটি অভ্যাসেও সচেতনতা আনতে পারলে হজমজনিত সমস্যাসহ নানা অসুবিধা এড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি শরীর থাকবে স্বাভাবিক ছন্দে সুস্থ ও সতেজ।