ক্রুড অয়েল লাইটারিং শুরু, বৃহস্পতিবার থেকে চালু ইস্টার্ন রিফাইনারি
ছবি: সংগৃহীত
‘এমটি নিনেমিয়া’ নামক একটি জাহাজে করে সৌদি আরব থেকে নিয়ে আসা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) লাইটারিং শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেল থেকে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করা এই জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে ফিরছে ছয়টি লাইটারিং জাহাজ।
এর ফলে রাষ্ট্রয়াত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে পুরোদমে জ্বালানি তেল উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ এমটি নিনেমিয়া বুধবার (৬ মে) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্যাংকারটি থেকে ক্রুড অয়েল লাইটারিং কাজ শুরু করা হয়। এ কাজের জন্য ছয়টি লাইটারেজ জাহাজ সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক জানান, এমটি নিনেমিয়া এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে মঙ্গলবার রাতে দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। জাহাজটি সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রামে আসার তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।
বিএসসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইরান যুদ্ধের আগে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) চালান দেশে এসেছিল। ক্রুড অয়েলের অভাবে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ইর্স্টান রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) গত ১৪ এপ্রিল থেকে উৎপাদন র্কাযক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ক্রুড অয়েলের এই চালান আসায় ইআরএল আবার পুরোদমে উৎপাদনে যাবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পিএলসি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়।
বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং উড়োজাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে।