কুয়েতে ইরানের হামলায় একজন নিহত
সংগৃহীত
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ভোরে চালানো ইরানের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, আবারও বেসামরিক লোকজন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কূটনৈতিক মিশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ইরানের এই স্পষ্ট আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করেছে। তারা বলেছে, এ ধরনের হামলা অঞ্চলে আরও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, কুয়েতের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। যা কেউ লঙ্ঘন করতে পারবে না। বারবার এমন হামলা করা ইরানের একটি পরিকল্পিত শত্রুতামূলক আচরণ। কুয়েত এটি কোনোভাবেই মেনে নেবে না বা সহ্য করবে না।
এদিকে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। এতে আরও জানানো হয়, সাতজনের ‘গুরুতর জরুরি’ অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
কুয়েত জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এই বারবার অন্যায় হামলার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।
টেকসই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২ জুন) ইরানে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এই হামলাকে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে দাবি করে।
এ হামলার বিষয়ে ইরানের আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার আকাশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায় যে, এরপর মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণে গার্ড বাহিনীর একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালায়। এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে কুয়েত ও বাহরাইনকে অভিযুক্ত করে ইরান এবং এই হামলার জন্য ওয়াশিংটনের নিন্দা জানায়।
এরপরই হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিশোধ হিসেবে একটি ‘আঞ্চলিক দেশে’ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে তারা।
পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী হামলার একটি ‘চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত শক্তিগুলোকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।