বগুড়ার যানজট নিরসনে নতুন রেলপথ, ডিও পত্র পাঠালেন প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি
প্রতিদিন ১৬টি ট্রেন চলাচলের কারণে বগুড়া শহরের চারটি রেলক্রসিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে শহরকে বাইপাস করে রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান রেললাইন সরিয়ে চার লেনের সড়ক এবং বর্তমান রেলস্টেশন এলাকায় আধুনিক বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠানো হয়েছে। বুধবার বেলা পৌনে ১১টায় ডিও পত্র পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে।
ডিও পত্রে উল্লেখ করা হয়, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। এই রুটে গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং থাকায় প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বর্তমান বাস্তবতায় এই রেলপথটি বগুড়া শহরের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা। যানজটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রতিমন্ত্রী তার প্রস্তাবে রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করে রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের ভেতর থেকে রেলপথটি অপসারিত হলে গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত এলাকাটিকে চার লেনের রাস্তায় রূপান্তর করা হবে। এছাড়া শহরের বিদ্যমান রেলস্টেশনটিকে সংস্কার করে দূরপাল্লার বাসগুলোর জন্য একটি আধুনিক বাসস্ট্যান্ড করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বগুড়া স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানান, বগুড়ার ওপর দিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় ১৬টি ট্রেন চলাচল করে। শহরের মধ্যে চারটি রেলক্রসিং রয়েছে। প্রতিটি ট্রেন চলাচলের সময় ৮ থেকে ১০ মিনিট করে ১৬ বার গেইট বেরিয়ার ফেলে রাখতে হয় রেলক্রসিংগুলোতে। এ সময় শহরের যানজটের সৃষ্টি হয়। রেলপথ সরিয়ে নিলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
বগুড়ার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহর রেলক্রসিংয়ের যানজট থেকে মুক্তি পাবে। উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ হবে।