ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার

ফাইল ছবি

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের থেকে হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা শহরের একটি ধসে পড়া শপিং মলের ৯ তলা পার্কিং ভবনের প্রায় ১৪০ টন কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে ২৯ ফুট গভীরে আটকে ছিলেন গিল। দীর্ঘ ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময়ের জটিল ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা তাকে বের করে আনতে সক্ষম হন।

ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দলগুলো হার্নান গিলকে মুক্ত করতে সহায়তা করেছে।

জানা গেছে, গিল ধসে পড়া ওই শপিংমলের নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করেতেন। শপিং সেন্টারটি ধসে পড়ার সময় গিল অলৌকিকভাবে পিষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত রোববার কোস্টারিকা রেড ক্রসের উদ্ধারকর্মীরা রাডার, সোনার এবং বিশেষ শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্রের সাহায্যে প্রথম ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের স্পন্দন টের পান। পরে একটি ছোট টেলিস্কোপিক ক্যামেরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর প্রবেশ করিয়ে গিলের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

চিলির ফায়ার সার্ভিসের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কংক্রিটের ফাঁক দিয়ে আঙুল নাড়াচ্ছেন। তবে উদ্ধারকাজের জটিলতার কারণে তাকে বের করতে দীর্ঘ সময় লাগছিল। গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকর্মীদের তৈরি করা পথগুলোর কিছু অংশ বেশ কয়েকবার ধসে পড়েছিল, যা তার পাশাপাশি উদ্ধারকারীদের জন্যও ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছিল। তাই তাকে জীবিত রাখতে ছোট ছিদ্র দিয়ে পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে পানি, তরল খাবার, অক্সিজেন ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

এছাড়াও উদ্ধারকাজের ধুলাবালি থেকে বাঁচতে তাকে মাস্ক পাঠানো হয় এবং উদ্ধারকারীরা যখন পাথর সরাচ্ছিলেন, তখন চোখের সুরক্ষার জন্য তাকে চশমা পরার অনুরোধ জানান।

চিলির এক অগ্নিনির্বাপক কর্মী এই উদ্ধার অভিযানকে তার দেখা ‘সবচেয়ে জটিল এবং কারিগরিভাবে কঠিন অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

এদিকে উদ্ধার অভিযানের পর কোস্টারিকা রেড ক্রসের রিকার্ডো আরিয়াস স্থানীয় সাংবাদিক জোয়ান ক্যামার্গোকে জানিয়েছেন, গিলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

এরআগে গত বুধবার (২৪ জুন) মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটিতে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানীর কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা অঞ্চল।

এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে অন্তত ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এখনো প্রায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।