নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচজন গ্রেপ্তার
ফাইল ছবি
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের নাওডোবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঢাকার বিভিন্ন টেম্পু স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন সামচুল হক বেপারী ওরফে ‘চাপাতি সামচু’। তিনি পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন টেম্পু স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
সামচুল হক বেপারীর বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের কালু বেপারীকান্দি গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, তার মৃত্যুর পর ওই চক্রের নেতৃত্বে আসেন তার তিন মেয়ের জামাতা অপু বেপারী, কামাল বেপারী ও মিজানুর রহমান বাবু চৌধুরী এবং ছেলে রনি বেপারী। অপু ও কামাল সম্পর্কে আপন ভাই।
সম্প্রতি এ চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (নড়িয়া সার্কেল) তত্ত্বাবধানে এবং পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নাওডোবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজনের কাছে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে পারেননি। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, নাওডোবা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পাঁচজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযানে ধারাবাহিকতা থাকবে।