রোগীকে হাসপাতালে ফেলে কুলখানির প্রস্তুতি, এগিয়ে এলেন ইউএনও-স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

রোগীকে হাসপাতালে ফেলে কুলখানির প্রস্তুতি, এগিয়ে এলেন ইউএনও-স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

সংগৃহীত ছবি

 

বাড়িতে ‘মৃত’ ভেবে যখন চলছিল কুলখানির আয়োজন। ঠিক সে সময় হাসপাতালে সেই ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে লড়ছিলেন চিকিৎসকেরা। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 

বিষপান করা অভিভাবকহীন অটোরিকশাচালক ছালাতুল্লাকে (৫০) বাঁচাতে আড়াইহাজারের ইউএনও ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। বাড়ি গিয়ে ভুল ভাঙিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে এনে, পরে নিজস্ব উদ্যোগে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। এদিন নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক ছালাতুল্লাকে (৫০) বিষক্রিয়াজনিত অবস্থায় আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তবে তাকে হাসপাতালে রেখে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা চলে যান। অভিভাবকহীন অবস্থায় জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা শুরু করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান শিমুল।

এদিকে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানকে জানানো হয়। পরে তিনি ইউএনও মো. আসাদুর রহমানকে অবহিত করেন। এরপর ইউএনও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রোগীর দেওয়া ঠিকানায় যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করেন।

রোগীর বাড়িতে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখতে পান, পরিবারের পক্ষ থেকে ছালাতুল্লা মারা গেছেন এমন খবর ছড়িয়ে তার কুলখানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে ইউএনওর উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে আনা হয়। রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমার প্রশাসনিক এলাকার বাইরের হলেও একজন মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছি। চিকিৎসকদের সহযোগিতায় রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রোগীর জীবন রক্ষাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’