মুক্তির আগেই বিতর্কে ‘কুইন টু’

মুক্তির আগেই বিতর্কে ‘কুইন টু’

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তির আগেই বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কুইন টু’। মূল ছবির মেধাস্বত্ব  লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ও ছবিটির মুক্তি আটকে দিতে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যান্টম স্টুডিয়োস’। ইতোমধ্যে বম্বে হাই কোর্টে ‘জিয়োস্টার’-এর বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছে তারা। ফ্যান্টম স্টুডিয়োসের দাবি, তাদের কোনো রকম অনুমতি না নিয়েই বেআইনিভাবে ‘কুইন’ সিনেমার এই সিক্যুয়েল নির্মাণ করা হয়েছে।  

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক বিকাশ বহলের হাত ধরে শুরু হয়েছিল ‘কুইন ২’ সিনেমার শুটিং। সম্প্রতি সিনেমাটির ক্যামেরা ক্লোজ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি পোস্ট-প্রোডাকশনের টেবিলে রয়েছে।  আর শুটিং শেষ হওয়ার এই খবরটি সামনে আসার পরপরই আইনি লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ফ্যান্টম স্টুডিয়োস।

সংস্থার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে একাধিকবার জিয়োস্টার এবং পরিচালক বিকাশ বহলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফ্যান্টম স্টুডিয়োসের পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির কথা জানানো হয় এবং প্রকাশ্যে একটি আইনি নোটিসও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু অপর পক্ষের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া বা সমঝোতার আভাস না মেলায় বাধ্য হয়েই শেষ পর্যন্ত মামলা দায়েরের পথ বেছে নিয়েছে তারা।

২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কুইন’ সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তোলার পাশাপাশি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে তুমুল প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সিনেমাটি সে বছর দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লুফে নেয়, যার মধ্যে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পান কঙ্গনা রানাওয়াত। সেই সময়ে ছবিটির যৌথ প্রযোজনায় ছিল ‘ভায়াকম১৮ মোশন পিকচার্স’ এবং ‘ফ্যান্টম ফিল্মস’। অনুরাগ কাশ্যপ, বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে, মধু মন্টেনা ও বিকাশ বহল মিলে গড়ে তুলেছিলেন ফ্যান্টম ফিল্মস। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে এই সংস্থাটি বন্ধ হয়ে গেলেও, ২০২১ সালে ‘ফ্যান্টম স্টুডিয়োস’ নামে নতুনভাবে এর পথচলা শুরু হয়।

ফ্যান্টম স্টুডিয়োসের দাবি, মূল ‘কুইন’ সিনেমার ৫০ শতাংশ মেধাস্বত্বের মালিকানা এখনো তাদের হাতেই রয়েছে। সেই আইনগত অধিকার বলেই এই সিনেমার সিক্যুয়েল বা রিমেক সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের অংশীদার তারা। চলতি বছরের এপ্রিলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, ‘কুইন’-এর ওপর ভিত্তি করে কোনো সিক্যুয়েল বা নতুন কোনো অভিযোজন নির্মাণের অনুমতি তারা কাউকে দেয়নি।