একাদশে ভর্তিতে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে বোর্ড, পরীক্ষা-লটারি নাকচ

একাদশে ভর্তিতে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে বোর্ড, পরীক্ষা-লটারি নাকচ

ছবি: সংগৃহীত

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি আগের মতোই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা ও লটারির প্রস্তাব নাকচ করে মেধাভিত্তিক বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

একই সঙ্গে শতভাগ মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করতে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত কোটা বাতিলেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিনিধি, দেশের শীর্ষ কলেজগুলোর অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে চলতি সপ্তাহেই আরও একটি বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা দুটি কোটাই বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে মোট ৭ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য এবং ১ শতাংশ অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত।

ভর্তি প্রক্রিয়ার কারিগরি দায়িত্বে থাকা বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পর্যাপ্ত যোগ্য আবেদনকারী পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নাতি-নাতনিদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় জটিলতা তৈরি হয়। এতে মেধাতালিকায় থাকার পরও অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির সুযোগ হারান। এসব কারণেই কোটা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের যুক্তি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা কোটা রাখার যৌক্তিকতা নেই। একই সঙ্গে সরকারি গেজেট অনুযায়ী বর্তমানে জীবিত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সর্বনিম্ন বয়স ৮০ বছর ৭ মাস হওয়ায় তাঁদের কলেজপড়ুয়া বয়সী সন্তান থাকার সম্ভাবনাও খুব কম।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নতুন ভর্তি নীতিমালায় কোটা বাতিল ছাড়াও ভর্তি পরীক্ষা ও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের প্রস্তাব ছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠকে নেওয়া হবে।

এদিকে বৈঠকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমেও ভর্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে আগের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জিপিএর ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।