গাইবান্ধায় ভাঙন আতঙ্কে দুই শতাধিক পরিবার
সংগৃহীত ছবি
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠা-নামার সঙ্গে চার উপজেলার নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে আরও দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সারিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন কবলিত এসব মানুষ অর্ধারে-অনাহারে দিন পার করছে। ভাঙনের খবরে জেলার সংশ্লিষ্ট ও শীর্ষ কর্তারা পরিদর্শনে গেলেও কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
শনিবার গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিকাল ৩টার তথ্য অনুযায়ী-গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ঘাঘট নদের পানি অপরিবর্তীত রয়েছে। এ নদের পানি বিপৎসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার ও তিস্তার নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসাীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
জেলার ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে-ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার ও কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকার ভাঙন থামছেই না। এতে বিপাকে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ।
সব থেকে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে। ভাঙন দেখা দিয়েছে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নেও। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে পূর্বে ডাম্পিং করা জিও ব্যাগ হঠাৎ তিনটি স্থানে ধসে গেছে। এর মধ্যে এক স্থানে প্রায় ৫০ মিটার, অন্য স্থানে ৩০ মিটার এবং আরেক স্থানে ২০ মিটার এলাকা ডেবে যায়। ধসে যাওয়া তিনটি স্থানের মধ্যে দু’টি সাধারণ মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকায় এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর শঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে পুনরায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করা হলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ ঘটনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল ইসলাম বলেন, বাড়ির সামনের বাঁধে ডাম্পিং করা স্থানে ধসে গেছে। বাঁধ ভেঙে গেলে বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাবে। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবো জানা নেই।
ওই গ্রামের সাবেক স্কুল শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, এলাকায় ডাম্পিং করা বাঁধের তিন স্থানে ধসে গেছে। বাঁধ ভেঙে গেলে এলাকার কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে এলাকার শতশত মানুষ।
দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙনের শিকার নূরি বেগম বলেন, মাসখানেক হলো এলাকা ভাঙতেছে। আবাদি জমি সব গেছে। এখন শুধু বাড়ি-ভিটা বাকী আছে। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই। ছোল-পোল নিয়ে এক বেলা খেয়ে দুই বেলা না খেয়ে আছি।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ রসুলপুরে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়াও ভাঙন ঠেকাতে ১০ থেকে ১২টি পয়েন্টে জরুরি কাজ হচ্ছে। ভুষির ভিটা এলাকায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত চার উপজেলায় ৮০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।