৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস ও পরীক্ষার সময় প্রকাশ

৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস ও পরীক্ষার সময় প্রকাশ

ফাইল ছবি

৫১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বুধবার পিএসসির ওয়েবসাইটে এ সিলেবাস প্রকাশ করা হয়। এ বিশেষ বিসিএসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। আগামী নভেম্বরে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) নেওয়া হতে পারে।

পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানিয়েছে, ৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় যথাসময়ে পিএসসির ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যমে জানানো হবে।

এ বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় মোট ২০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর পাওয়া যাবে। তবে ভুল উত্তরের জন্য প্রতিটি প্রশ্নে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা হবে।

লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০, বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০, মানসিক দক্ষতায় ১০ এবং গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর থাকবে। সংশ্লিষ্ট ক্যাডার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে থাকবে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন।

বিশেষ বিসিএস হওয়ায় লিখিত পরীক্ষা শুধু ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এ পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন বা মেডিক্যাল অফিসার এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ পাবেন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে, তারা এ বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১০টায়। আবেদন করা যাবে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

সাধারণ প্রার্থীদের আবেদন ফি ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ফি ৫০ টাকা। এর সঙ্গে টেলিটকের ভ্যাট ও তথ্য যাচাই বাবদ আরও ৫ টাকা দিতে হবে। আবেদন শেষ হওয়ার পর যারা ইউজার আইডি পাবেন, তারা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথে থাকা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের সব লিখিত পরীক্ষা ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হতে হবে। দেশি বা বিদেশি ডিগ্রির সমমানের সনদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় জমা দিতে হবে।

সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে।

পিএসসি সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের এ বিশেষ বিসিএসে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা না থাকায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে। দ্রুত ফল প্রকাশ করে ৫ হাজার চিকিৎসককে দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পদায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি ও অন্যান্য কারণে শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে।

পরীক্ষায় তদবির করলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া, সনদ জাল করা কিংবা পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে। এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বা ভবিষ্যতে সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পিএসসি।