ফিলিস্তিন শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) সোমবার সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের নজিরবিহীন মানবিক চাহিদা মেটাতে যে সীমিত সংখ্যক ত্রাণ বহর পাঠানো হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল।
গাজা
অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলায় গত ২৩ দিনে ৮ হাজার ৩০৬ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৫৭ জন শিশু এবং ২ হাজার ১৩৬ জন নারী।
অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলা টানা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অব্যহত। জাতিসংঘের শিশু নিরাপত্তা ও অধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় দৈনিক হতাহত হচ্ছে ৪২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু।
ইসরাইলি হামলা ও জ্বালানির অভাবে গাজায় শতাধিক চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, অবরুদ্ধ গাজায় হামলা ও জ্বালানির অভাবে ১২৪ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছে।
গাজা উপত্যকায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। একই সাথে তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতির ও সাহায্যের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
গাজায় থাকা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, ইসরায়েল তাদেরকে গাজার গুরুত্বপূর্ণ আল কুদস হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।সংস্থাটি বলছে, এই হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট আইসিইউতে রোগী রয়েছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় রোববার আরও ৩৩ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইসরায়েলের নিরবিচ্ছিন্ন হামলার মধ্যে গত সপ্তাহে গাজায় প্রথম ২০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত শিশুদের সংখ্যা, গত চার বছরে বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র সংঘাতে নিহত শিশুদের বার্ষিক সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
গাজায় ৭ অক্টোবর থেকে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ১৯৫ শিশু নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালে পর থেকে এ পর্যন্ত সংঘাতে বিশ্বে প্রাণ হারানো শিশুর তুলনায়ও যা অনেকটা বেশি।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়টি "দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠিন" হবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এমন হুঁশিয়ারির মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলা রবিবার ২৪তম দিনে প্রবেশ করেছে।