পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব ও বিশুদ্ধতা নিয়ে মুমিনরা অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। তবে সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেক সময় নখ বা চুল কাটার মতো স্বাভাবিক কাজকেও অনেকে সওয়াব কমানোর কারণ মনে করেন।
রোজা
রমজান মাসে মুসলমানরা রোজা রাখার পাশাপাশি নিজেদের আচার-আচরণ ও অভ্যাসের প্রতিও বিশেষভাবে নজর দেন। এ সময় অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, রোজা রেখে গান শোনা যাবে কি না।
ইসলামে গান-বাজনা নিয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। কিছু আলেম গানকে সম্পূর্ণ হারাম বলে মনে করেন।
প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য রোজা রাখা ফরজ। রোজা রাখার জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। এই সময়ে পানাহার করলে বা কোনো কিছুর স্বাদ নিলে রোজা ভেঙে যায়।
পবিত্র রমজান আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক পাথেয় সংগ্রহের মাস। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক রোজাদারের ঘুমের রুটিনে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। অনেকে সারা রাত জেগে ইবাদত বা অন্য কাজ করেন এবং দিনের সিংহভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটান।
রোজায় বেশিরভাগ রোজাদারের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো খাদ্যাভ্যাস। রোজায় আমরা এমন অনেক খাবার খাই যা মুখরোচক হলেও স্বাস্থ্যকর নয়।
রমজান মাসে সামাজিক জীবন বিশেষভাবে সক্রিয় থাকে। ইফতারে অতিথি হয়ে কারও বাড়িতে যাওয়া অথবা আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবেরা বাড়িতে আসা এসময় খুবই পরিচিত দৃশ্য।
রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়ার প্রশিক্ষণের মাস। রোজা শুধু ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জন নয়, এটি মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তনের এক মহড়া। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা।
মাঝেমধ্যে কারও এমন হয়, সাহরির সময় ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারেন না। পরে ঘুম ভাঙলে দ্বিধায় পড়ে যান এই ভেবে যে, সাহরি না খেয়ে রোজা রাখবেন কি না। সাহরি না খেয়ে রোজা রাখলে রোজা হবে কি না?
রমজানের পবিত্র পরিবেশে আত্মশুদ্ধির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সত্যবাদিতা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন তার চরিত্রকে উন্নত করার যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, মিথ্যা সেখানে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
রমজান মাসে সামাজিক জীবন বিশেষভাবে সক্রিয় থাকে। ইফতারে অতিথি হয়ে কারও বাড়িতে যাওয়া অথবা আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবেরা বাড়িতে আসা এসময় খুবই পরিচিত দৃশ্য। মূলত ইফতারের খাবারের ওপরই বেশি নজর দেওয়া হয়, চেষ্টা থাকে সবচেয়ে ভালোভাবে আপ্যায়ন করানোর।