পবিত্র রমজানের রোজা শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ‘নিয়ত’ বা সংকল্প। আসলে কোনো ইবাদতই নিয়ত ছাড়া গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্যও নিয়ত থাকতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, রাতে কিংবা সাহরির সময় আলাদাভাবে মুখে নিয়ত করতে ভুলে যান অনেকে।
রোজা
রোজা ফারসি শব্দ। এর আরবি শব্দ সাওম বা সিয়াম। অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক (রাতের শেষ দিকে পূর্ব দিগন্তের উভয় দিকে ক্ষীণ (দিগন্তের সঙ্গে ভার্টিক্যালি) প্রশস্ত আকারে যে আলো প্রকাশ পায়) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও যাবতীয় যৌনাচারসহ অশ্লীলতা, অপচয়-অপব্যবহার, অন্যায় আচরণ ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা।
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর মালয়েশিয়ার মুসলিমরা সিয়াম সাধনা শুরু করেছেন। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ছিল এ দেশে এবারের প্রথম রমজান। তাই রমজানের প্রথম দিনটি সবার কেটেছে মহা ব্যস্ততায়।
রোজায় অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে যারা খাবারের বিষয়ে খুব একটা সচেতন নয়, তাদের বড় অংশকেই এই সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। ইফতারের আয়োজনে ভারী ও মসলাদার খাবার, ডুবো তেলে ভাজা মুখরোচক একাধিক খাবারও এর পেছনে বড় একটা ভূমিকা রাখে।
সেই চেনা বাজার। চেনা সব দোকানদার। কিন্তু রোজা আসায় সব যেন অচেনা! ইফতার ও সাহরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্রের দামে রীতিমতো আগুন! এই বাড়তি দাম ‘জায়েজ’ করতে অন্তহীন অজুহাত। খুচরা বিক্রেতা পাইকারদের, পাইকাররা আমদানিকারকদের দায়ী করছেন।
বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ (বুধবার) দিবাগত শেষরাত থেকে রমজান মাসের রোজা রাখবেন বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মাহে রমজান শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত ভোর রাতে সাহরি খেয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাসের রোজা রেখেছেন মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা।
সৌদি আরবের আকাশে আজ রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে সেখানে ২৯ দিনে শেষ হচ্ছে শাবান মাস। আর পবিত্র মাহে রমজান মাস শুরু হবে আগামীকাল বুধবার।
রমজান এলেই শিশুদের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে যে বয়সে তারা রোজা রাখা শুরু করে, তখন সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নটি হলো, আমরা কেন রোজা রাখি? শিশুদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রাথমিকভাবে তাদেরকে বুঝাতে বলা যায়, আল্লাহ আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হলে সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য, আর রমজানে রোজা রাখলে তিনি বিশেষভাবে সন্তুষ্ট হন আমাদের ওপর।