মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো নাবিক।
হরমুজ
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমান উপকূলের কাছে একটি তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে ইরানের কোস্ট গার্ড। তবে জাহাজটিতে থাকা ১৭ জন ভারতীয় নাবিক সবাই নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিসেস অফিস।
‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো টোল নেবে না ইরান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, রাশিয়া সহ বেশ কিছু ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার ফি বা শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ইরান।
রুশ সংবাদ সংস্থাকে মস্কোতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, ‘আমরা কিছু দেশের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে কী হবে তা আমি জানি না।’
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে ২টি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের নৌবাহিনী। গতকাল বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা টোলের প্রথম অর্থ পেয়েছে ইরান।
হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণ করতে ছয় মাস সময় লাগবে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সংবাদ সংস্থাকে এ কথা জানিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ-অবরোধ বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে লঙ্ঘন করছে এবং এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।