যখন থাইরয়েড খুব কম হরমোন তৈরি করে, তখন হাইপোথাইরয়েডিজম হয়। যখন এটি খুব বেশি তৈরি করে, তখন হাইপারথাইরয়েডিজম হতে পারে। উভয়ই দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু এদের লক্ষণগুলোকে মানসিক চাপ, বার্ধক্য বা অন্যান্য সাধারণ সমস্যার লক্ষণ বলে ভুল করা সহজ।
থাইরয়েড
ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটার লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশে বাজারজাতের অনুমোদন পেয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শরীরে হঠাৎ ক্লান্তি, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া বা চুল পড়ার মতো সমস্যাকে আমরা অনেক সময়ই আলাদা আলাদা বিষয় বলে এড়িয়ে যাই। খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাই না। কিন্তু এই ছোট ছোট লক্ষণগুলোর পেছনেই লুকিয়ে থাকতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা।
বর্তমান সময়ের একটি অতি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা থাইরয়েডের সমস্যা। আমাদের গলার কাছে রয়েছে প্রজাপতি আকৃতির এই গ্রন্থিটি। এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই থাইরয়েডের সমস্যার কারণে কেউ অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যান আবার কেউ অনেক চিকন হয়ে যান।
দেশে ক্রমেই বাড়ছে থাইরয়েড রোগী সংখ্যা। নারী ও পুরুষ উভয়েই আক্রান্ত হচ্ছেন রোগটিতে। শহরের মানুষ কিছুটা সচেতন হলেও গ্রাম পর্যায়ে অজ্ঞতার কারণে রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ভুগতে হয় দীর্ঘমেয়াদে।
দিন দিন বাড়ছে থাইরয়েড। আর আধুনিক জীবনযাত্রায় থাইরয়েড সমস্যা থেকে দূরে থাকতে হলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আয়োডিনযুক্ত খাবার রাখা জরুরি।
থাইরয়েডের সমস্যায় পুরুষদের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি ভোগেন, এমনটাই বলছে আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে একজন আক্রান্ত হলেও, মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৫ থেকে ৮ জন পর্যন্ত হতে পারে।
দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। এসব রোগীর মধ্যে ৬০ শতাংশ চিকিৎসাসেবার আওতার বাইরে।
হরমোনের মাত্রা বেশি হলে যেমন এক রকম সমস্যা হয়, তেমনই কম হলেও দেখা দেয় নানা উপসর্গ। কারো ওজন বাড়ে, কারো কমে যায়। দেখা দেয় অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মনঃসংযোগে সমস্যাসহ নানা জটিলতা।
গলার কাছে থাকা ছোট্ট একটি গ্ল্যান্ড যা দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো তাকে থাইরয়েড বলে। এই গ্ল্যান্ড থেকে নির্গত হরমোন নানা শারীরবৃত্তীয় কাজে সাহায্য করে। কিন্তু কখনো কখনো থাইরয়েড গ্ল্যান্ড খুব বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে।