টানা ষষ্ঠ মাসের মতো দেশের রফতানি খাত পতনের ধারায় রয়েছে। সবশেষ গত জানুয়ারি মাসে দেশে পণ্য রফতানি থেকে আয় এসেছে ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার। বছর ব্যবধানে যা কমেছে ০.৫০ শতাংশ।
টানা ষষ্ঠ মাসের মতো দেশের রফতানি খাত পতনের ধারায় রয়েছে। সবশেষ গত জানুয়ারি মাসে দেশে পণ্য রফতানি থেকে আয় এসেছে ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার। বছর ব্যবধানে যা কমেছে ০.৫০ শতাংশ।
রফতানি খাতে নগদ প্রবাহ বাড়ানো ও ব্যবসা সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম প্রাপ্ত রফতানি আয়ের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে।
গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের রফতানি আয় ৪১১ কোটি ৯৭ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
মে মাসে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে দেশের রফতানি খাত। এ মাসে ৪০৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম। রফতানিতে এই পরিমাণ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১১ মাসে আর হয়নি।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের রফতানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বাংলাদেশে রফতানি আয় বাড়লেও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। আর রফতানি আয় মূলত ধরে রেখেছে তৈরী পোশাক খাত। এই খাতে রফতানি আয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.২৭ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে রফতানি আয়ের ৮৪.৫৭ ভাগই এসেছে পোশাক খাত থেকে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক দুর্বল আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের রফতানি আয় এসেছে।
রফতানি আয়ের জন্য মার্কিন ডলারের বিনিময় হার প্রতি ডলারে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।
প্রবাসী ও রফতানি আয়ে ফের ডলারের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে দাম পাবেন ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। আর রফতানিকারকরা রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম পাবেন ১০৭ টাকা। এতদিন প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম ছিল ১০৮ টাকা এবং রফতানি আয়ে ছিল ১০৬ টাকা।
রফতানি আয়ে ধাক্কা লেগেছে। গত বছরের মার্চ মাসের চেয়ে গত মার্চে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ২.৪৯ শতাংশ। এ সময়ে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। মার্চে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে সাত শতাংশ কম অর্জন হয়েছে রফতানি আয়।