স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে একটি স্লোগান শুনেছি। সেটি হলো, ‘রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন চাই।’ এই স্লোগান এত বছরে কার্যক্ষেত্রে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে—এই বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে যেটি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো এই স্লোগানে কী বোঝাতে চাওয়া হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে কোন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মতামত
অভ্যুত্থান ঘটে, বিপ্লবের আওয়াজও কানে আসে। কিন্তু এসব উন্নতির অভ্যন্তরে যে অবনতিটা রয়ে গেছে, তার ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়ে না। দুর্নীতি বাড়তেই থাকে, দুর্নীতির ভয়াবহ সব তথ্য উন্মোচিত হয়। সর্ষের ভিতর ভূত যে নিতান্ত অবাস্তব কল্পনা নয়, সেটা প্রমাণ করে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যাপারেও দুর্নীতির অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে।
কবি নজরুল ইসলামের সমাজ বিপ্লবকামী কালজয়ী প্রতিভা যে অল্প সময়ের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে গেল তার পেছনে পারিবারিক আর্থিক সংকট, পুত্র হারানোর শোক, স্ত্রীর অসুস্থতার বেদনা যেমন ছিল, তেমনি কিন্তু কাজ করেছে, যে আন্দোলনের ওপর তিনি ভরসা করেছিলেন, তার প্রবাহ স্তিমিত হয়ে যাওয়া। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো কবি এবং সমরেশ বসুর মতো কথাসাহিত্যিকের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও কর্মী হয়ে যাওয়া এবং পরে দল ত্যাগ করার জন্যও কেবল তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে দুষলে চলবে না, আন্দোলনের অনগ্রসরতার বিষয়টিকেও বিবেচনায় নিতে হবে। সমাজ বিপ্লবের প্রতিহত দশা অবশ্য কেবল যে এ দেশে সত্য ছিল তা-ও নয়, ঘটেছে বিশ্বব্যাপী।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই বাক্যটি আমরা এতবার উচ্চারণ করেছি যে, আজ আর ব্যথা অনুভূত হয় না। অথচ বাস্তবতা বলছে, সেই মেরুদণ্ডেই সবচেয়ে বেশি চাপ।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষকরা শিক্ষার মেরুদণ্ড—এই বাক্যটি আমাদের জাতীয় জীবনে এত বেশি ব্যবহৃত হয়েছে যে বাস্তবতার সঙ্গে এর দূরত্ব এখন চোখে পড়ার মতো।
যেকোনো সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। একটি সরকার যেভাবেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করুক না কেন, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক। নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে।
অবশেষে শেষ হলো ড. ইউনূসের শাসনামল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পরপরই ইউনূসের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। একটি গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের অভিপ্রায় অনুযায়ী শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি বরণ করে নেয়। ড. ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।
মনে আছে গত বছর মার্চ মাসে নারী হেনস্থার সেই ঘটনাটা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ‘ওড়না পরা’ নিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তার অভিযোগ উঠলে গ্রেফতার করা হয় মোস্তফা আসিফ অর্ণব নামের এক ব্যক্তিকে।
এ ভূখণ্ডে '১৯৪৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মোট ৫ বার গণভোট অনুষ্টিত হয়েছিল। তবে প্রতিটি গণভোটেই সাধারন জনগণের জন্য একটি মাত্র প্রশ্ন ছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় সংঘটিত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীকে খুব গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়। উভয় বিশ্বযুদ্ধে নারী ও শিশুসহ আনুমানিক ৬ কোটির বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে পৃথিবীব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ নানাবিধ মানবিক সংকট মোকাবেলার জন্য বিশ্বনেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টায় ১৯৪৮ সালের ২৪ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে বিশ্বশান্তির সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ।
আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই বিপ্লব-পূর্ব প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এক যুগে প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া ও ভোটারবিহীন তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সরব অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে বাধাহীনভাবে ভোট প্রদানের সুযোগ লাভ করতে যাচ্ছে। সারা দেশে নির্বাচনের উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পুঁজিবাদ যে মৌলবাদকে পুষ্ট করে সে ব্যাপারটা অস্পষ্ট নয়, যদিও তাকে অস্পষ্ট রাখার চেষ্টা চলে। পুঁজিবাদ দারিদ্র্য-বৈষম্য এবং অজ্ঞতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধি করে থাকে। দারিদ্র্য ও অজ্ঞতা মৌলবাদের প্রধান আশ্রয়। পুঁজিবাদী বৈষম্য দারিদ্র্য উৎপাদনের কারণ এবং ওই বৈষম্য গরিব মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকার অবশেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ভেঙে দুটি পৃথক অধিদপ্তর গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্বোধন নিয়ে জটিলতার ঘটনা বঙ্গমুল্লুকে একেবারে কম নয়। বরং, এটি আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের নিত্যসঙ্গী। একটি উপজেলার ইউএনও একজন নারী। তাঁকে ‘আপু’ ডাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা, দেশের তরে’ এই দীপ্ত স্লোগান বুকে ধারণ করে ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সময়ের পরিক্রমায় এখন জাতির আশা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলো থেকে শুরু করে অদ্যাবধি প্রতিটি সংকটকালে দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে নির্ভীকভাবে এই বাহিনী।
বাংলাদেশে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো না জেনেই মতামত দিতে মানুষ স্বচ্ছন্দ বোধ করে। শিক্ষকদের ১৫ দিনের ছুটি তার একটি।